ভিয়েতনামের সবচেয়ে বড় শহর হো চি মিন সিটির প্রধান কেন্দ্রগুলোয় পেট্রলচালিত যান নিষিদ্ধের পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ। এর বদলে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) ব্যবহারে উৎসাহ দেয়া হবে। আগামী জুলাই থেকে রাজধানী হ্যানয়ের প্রধান এলাকাগুলোয়ও অনুরূপ বিধিনিষেধ চালু হতে পারে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
২০২৭ সালের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা ও অ্যাপ-ভিত্তিক পরিষেবাদাতাদের ব্যবহৃত মোটরবাইকের অন্তত ৫০ শতাংশ ইভি ও ২০৩০ সালের মধ্যে তা শতভাগ উন্নীতের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে হো চি মিন সিটি কর্তৃপক্ষ।
ইভি ও ই-বাইকের প্রসারে এরই মধ্যে অবকাঠামো তৈরিসহ একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নির্মাণ হবে ১ হাজার ৩৩৮টি চার্জিং স্টেশন। অফিস, হাসপাতাল, পার্কিং লট ও বাসস্টেশনে শতভাগ গাড়ি চার্জ পরিষেবা নিশ্চিত করা হবে।
ভিয়েতনামে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ মোটরবাইক ব্যবহার করেন, এসব বাহনের অধিকাংশই পেট্রলচালিত। দেশটির দুই বড় শহরে মোটরবাইক সীমিত করার প্রধান কারণ হলো ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ। গতকাল এক জরিপে দেখা যায়, বিশ্বের ১২৬টি শহরের মধ্যে হ্যানয় বায়ুদূষণে দশম। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে শহরটি। অন্যদিকে হো চি মিন সিটির অবস্থান ৩৩তম।
প্রযুক্তিবিদ হোয়াং থান তুয়েনের মতে, ইভি গ্রহণ বাড়াতে শুধু সড়ক নয়, ভবনসংক্রান্ত নীতির সংস্কার করতে হবে। অ্যাপার্টমেন্টে চার্জিংয়ের বাধ্যতামূলক মানদণ্ড ও পুরনো ভবন উন্নয়ন নিয়েও পরিকল্পনা রয়েছে ভিয়েতনাম সরকারের।
বিশেষজ্ঞরা আরো বলছেন, ভিয়েতনামের বেশির ভাগ চালক এখনো জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর। নতুন পরিকল্পনায় শুধু পরিবেশগত প্রভাবের প্রশ্ন নয়, জনমনে ধারণা ও মানসিকতা বদলানোর চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অনেক ভোক্তার পক্ষে এখনই সবুজ বিকল্পে রূপান্তরের সামর্থ্য নাও থাকতে পারে। অবশ্য বিষয়টি বিবেচনায় রেখে হো চো মিন সিটির প্রস্তাবে ১০ হাজার নিম্ন আয়ের চালকের জন্য ভর্তুকির উল্লেখ করা হয়েছে।